রমজানে সুস্থ থাকতে ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

প্রকাশের তারিখঃ February 17, 2026

🌙 রমজানে সুস্থ থাকতে ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম পালন করি। এই সময়ে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও না পান করে থাকার কারণে শরীরে কিছু স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন না মানলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ডিহাইড্রেশন, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তে সুগারের ওঠানামার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ডা. নিপুণ নুসরাত বলেন, রমজানে সুস্থ থাকতে হলে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক রুটিন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তাই রমজানে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

💧 ১. ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসাথে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে ভাগ করে পানি পান করা উচিত।

✔ ইফতারে ১–২ গ্লাস পানি দিয়ে শুরু করুন
✔ রাতের খাবারের পর ধীরে ধীরে পানি পান করুন
✔ সেহরিতে অন্তত ১–২ গ্লাস পানি পান করুন

মোট ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চা, কফি ও সফট ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।

🥗 ২. সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
রমজানে ইফতারে প্রচুর ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়—যেমন পিয়াজু, বেগুনি, চপ, সমুচা ইত্যাদি। মাঝে মাঝে খাওয়া সমস্যা নয়, তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভাজা খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, ওজন বৃদ্ধি এবং কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার সীমিত রাখা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

🔸 তাই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার ইগনোর বা সীমিত করার চেষ্টা করুন।
🔸 ইফতার শুরু করুন খেজুর ও পানি দিয়ে।
🔸 ফল, সালাদ, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
🔸 অতিরিক্ত তেল, চিনি ও লবণ কমান।

সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং সহজে হজম হয়।

🌿 রমজানের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা
সঠিক নিয়মে রোজা পালন করলে শরীর ও মনের জন্য বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়—

🔹 শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত হয়
🔹 শরীরের টক্সিন নির্গত হতে সহায়তা করে
🔹 খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
🔹 আত্মসংযম ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়
🔹 ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে

ডা. নিপুণ নুসরাত–এর মতে, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপন বজায় রাখলে রোজার এই স্বাস্থ্য উপকারিতা আরও কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব।

তবে এসব উপকারিতা পেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

😴 ৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
রমজানে রাত জাগার কারণে অনেকের ঘুমের রুটিন পরিবর্তিত হয়। ঘুমের ঘাটতি শরীরকে দুর্বল করে এবং মনোযোগ কমিয়ে দেয়।

✔ প্রতিদিন ৬–৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন
✔ প্রয়োজনে দুপুরে ২০–৩০ মিনিট বিশ্রাম নিন
✔ অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমান

🚶‍♂️ ৪. হালকা শারীরিক ব্যায়াম চালু রাখুন
সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় না থেকে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং শরীরকে সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে।

✔ ইফতারের ১–২ ঘণ্টা পরে ১৫–২০ মিনিট হাঁটা
✔ ভারী ব্যায়াম ও অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন

🩺 ৫. দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট বা কিডনি রোগ থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

✔ ওষুধের সময়সূচি চিকিৎসকের সাথে মিলিয়ে নিন
✔ নিয়মিত সুগার ও প্রেসার পরীক্ষা করুন
✔ অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন

ডা. নিপুণ নুসরাত
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

Scroll to Top